সম্প্রতি সমাপ্ত হয়েছে শিক্ষাবিদ্যার স্নাতক স্তরের চূড়ান্ত পর্বের পরীক্ষা। বি.এড. বলতে গেলেই কেমন যেন জিভ জড়িয়ে যায়, ফলে শব্দ তাত্ত্বিক বিচ্যুতি ঘটে
হয়ে দাঁড়ায় ‘বেড’, বাংলা প্রতিশব্দে যার অর্থ ‘বিছানা’। তবে কি বি.এড. বলতে শয্যাশায়ী অবস্থা? নাকি এর অর্থ আরও গভীরে, যেথা আলোকপাত করতে পারি না আমরা কেউই অন্ধকারের ভয়ে।
ইদানিং এই ক’দিন আগেই চা খেতে গিয়েছিলাম
বন্ধুদের সঙ্গে কোনো এক মোড়ে,
চা দোকানি বলছে একজনকে, “এই তোমাদের মতো মাস্টারাই দেখছো তো কী কী করে বেড়াচ্ছে।”
তখন বুঝলাম, উনি শিক্ষক।
কিচ্ছুক্ষণ চুপ করে থেকে
প্রত্যুত্তরে বলে, “কী আর বলি বলো”…
কেউই চায় না আগুনের ছ্যাঁকা নিতে।
তাই যত দোষ পেশা-পেশাদারিত্বের।
আমার এক বন্ধুর মারফৎ জেনেছি
বি.এড. নামক এক ব্যাধির কথা।
বেসরকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে
কেনা-বেচা হয় শিক্ষার,
হাট-বাজারের হকারদের মতো দর হাঁকে
দালালেরা,
টাকা ছুঁড়লেই শংসাপত্র মেলে,
বই খুলে পরীক্ষা হয়,
তার বাবদ কিছু নুন্যতম পারিশ্রমিক দিতে হয়।
আবার বহিঃপরীক্ষক ওনার চাহিদা ভিন্ন,
কেউ চায় টাকা,
কেউ আবার চায় কচি-কাঁচা,
মানুষের বয়স বাড়ে শুধু
চাহিদা ফুরোয় না।
উচ্চস্তরটাই কি এতটা নোংরা?
লোকে কি ঠিকই বলে
ভালো মানুষটা দেখতে ভালো
মনটা নর্দমা…!
আমি যদি কখনো শিক্ষক হই
লজ্জিত হবো
কোন সাহসে আমি মেয়েদের চোখে চোখ রাখবো
কোন বুকের পাটায় আমি তাদের আশীর্বাদ করতে ছোঁবো?
কিংবা ছুঁলাম কখনো অশুভ অভিপ্রায়েই,
সেই মেয়ে কি বলতে পারবে কখনো
মা কিংবা বাবাকে গিয়ে —
স্যারেরা আমার হাত ধরে,
ফিগারের নিয়ে কথা বলে…
সে চেপে যায় সব
পরীক্ষার ফলে প্রভাব পড়বে ভেবে।
ঢেউয়ের মতোই অভিযোগ ওঠে
আবার মুখ থুবড়ে পড়ে
নিজেরই অন্তরের অভ্যন্তরে,
তার অভিযোগ শুনবে কারা…
যাদের ও বিশ্বাস করে
ওরাও তো চায় কোনোভাবে
কুমিরের খবর কুমিরকে দিলে
কুমিরেই তো গিলে খাবে,
শুধু মুখোশ বদলায়
মুখখানি তো থাকে এক।
আমি এই দুই বছর শিখেছি অনেক —
শিখেছি অসহায়তা,
শিখেছি বর্বরতা,
শিখেছি খিস্তি দিতে,
শিখেছি ফাঁকি দিতে,
শিখেছি কাছে ডেকে ফেরাতে,
শিখেছি প্রতি পদে যাই করি
ছবিতে ভরে দিতে,
শিখেছি নিন্দামগ্ন হতে,
শিখেছি হয়রানি করে
মজা নিতে,
শিখেছি –
“সবার ওপরে আমিই সত্য তাহার উপরে কেহ নাই”,
শিখেছি আরও অনেক
পঞ্চ ইন্দ্রিয় যতটা পেরেছে ধারণ করতে।
আমি ভালো হতে পারিনি
যেমনটা বাকিরা পেরেছে,
পিতৃ শিক্ষা ছিলো চুপ করে থেকে যেতে
এথা ওথা মাথা না গলাতে
আমি না গলিয়ে পারি না
আমার মুখ তোতলায়
বুক কাঁপে বটে
হাত তবুও থামে না ঝলকানিতে…
মানুষ তো দেখেই শেখে
অনুপ্রেরণা পায়
চৌর্যবৃত্তি যদি চোরেরা শেখায়
আমি সাধু হয়ে কি ঠাঁই পাবো
ওই ঘেরাটোপে?
প্রতিবাদের ঝড় কখনই ওঠে না
কারণ আমরা মেনে নিই
মনে নিতে পারিনি যদিও…
কার নিয়ে লড়বে কে?
যে ভোগে সেই তো নীরব
প্রাপ্তি নিশ্চিত যদি এটুকুতেই হয়
কে করবে অগ্রাহ্য বলো…
সারি সারি শয়ন কক্ষ
শয্যাসঙ্গী বদলায়
ওত পাতা আছে
যার যেটা প্রয়োজনীয়
পেতে মরিয়া যে কেউ
তখন কে বোঝায় কাকে
ভূত যদি ধরে বেবাকে
সব অন্ধকার পাড়ি দিতে রাজি
আলোকসজ্জায় সাজিবার লাগি
এটুকু তো দিতেই হবে কোরবানি…