মঙ্গলবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৫

আঁধারে সভ্যতা

যে সংসারের মাঝে ‘মা’ একদিন দেওয়াল হয়ে দাঁড়ায়, 
তাঁকে নিয়ে মাতৃ দিবসে কত কথা, 
কত ভুয়সী প্রশংসা! 

দ্যাখ মা, তোর তো দুই ছেলে আর এক মেয়ে,
দেখ তুই কার কাছে থাকবি…
 তোর ওই জমি-জমা যদি আমায় লিখে দিস, আর মাসের শেষের ওই পেনসন যদি তুলে দিস আমার হাতে, 
তোর খেতে পরতে অসুবিধে হবেনে।

দু’দিনেই বলে দেবে গৃহিণী, 
ওদের সেবা করতে আমি তো এখানে আসিনি…
 
…এভাবেই কোনোদিন আট-নয় মাসে 
মায়ের বাঁধন ছিঁড়ে বেরিয়েছিল সন্তান, 
আজ আবারও বিয়োগ… 
সোনার মানিক আজ পত্নী’র গোলাম।

বৃদ্ধাশ্রমে বুড়ো-বুড়ি, 
এই ছিল কপালের লিখনে!
না খেয়ে যারে খাওয়ানো, 
না পরে যারে পরানো,
প্রতিদানে ফসল ফললো এই!

কত স্বপ্ন ছিল, 
পড়িয়ে মানুষ করবো তাঁরে,
আজ চাকুরীরত, দেখে বুক চওড়া হয়…
শূন্য পেটে ছাতি কীভাবে ফোলে!

আমরা না পাই খেতে, 
তাঁরা তো পায়।
ওই হাসিতেই আমাদের পেট ফুলে ওঠে।
মানিক যা চেয়েছিল পেয়েছে, 
আমাদেরও চাওয়া ছিল ওইটুকুই।

ছোটোতে তাঁরে বলতাম, 
কি রে বড়ো হলে আমাদিগকে খেতে দিবি কি নে?
সেই জড়িয়ে ধরা কি আর ভোলা যায়!
তোমাদের না খাইয়ে খাবো কি করে…

আজ গিন্নি আছে…
বউমার চোখে আজ আমি ডাইনি,
আমি অশুভ, 
অভিশাপ…
আমি খেতে না পাই, 
তাঁরা পাওক।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

উন্মোচন

বৈবাহিক সংলাপ

অর্ধশতকের অর্ধেক বসন্ত পার হয়ে গেছে, মুখে তার ছাপ ভাসমান। তবে আধার ভিন্ন কথা বলে— ওখানে আমি এখনও তরুণ। ছোটোবেলায় বলতো বাবা-মায়ে, “কয়েক ব...

শীর্ষপাঠ