শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

ঋণ

ভ্রূণ যেদিন পূর্ণতা পায়
সম্পূর্ণরূপে প্রাণে,
প্রেম জোটে কখনো
কারো ত্রাণে।
দু’মুঠো খাই,
পরি শৌখিন কিছু
কারো দানে।
আমার তরণী নিমজ্জিত
ভারে…

কথার শূলিতে চড়ায় কেউ,
কেউ ইতরামি করে—
“শালার মুরোদ কী?
আমি ছাড়া জুটতো মেয়ে,
পেতো কি কখনো খেতে?
দু’টাকা কামায় আমার কৃপায়,
আমাকে ফুটোনি করে!”

ঋণ নামক ঝড়ে
উড়ে এসেছি আজ এত দূরে।
ঋণী যার কাছে,
চেয়ে পারি না মুখ ফেরাতে—
শব্দবাজি এখন ভীষণ বাজে…

বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

উচ্চ বৃত্তি - এক নারীর আত্মকথা


স্বপ্ন ছিল আকাশসমান,
ইচ্ছে ছিল ছোঁবো।
বাবা-মা তাই বিয়ের কথা
তোলেনি একবারও।

একে একে স্নাতক,
স্নাতকোত্তর—
সম্পূর্ণ হয়ে গেছে।
ফল করেছি ভালো,
তাই বাবা-মা খুশি,
গর্বিত।

এই বছর জাতীয় যোগ্যতা পরীক্ষায়
জুনিয়র রিসার্চ ফেলোশিপ পেয়েছি।
ভাষায় বোঝানো মুশকিল—
আমি আত্মহারা…

আমায় বিশ্ববিদ্যালয়ে
যে ম্যামটি স্নেহ করতেন খুব,
আমি পৌঁছালাম ওনার কাছে।
উনি খুব বাহবা দিলেন,
কিন্তু নিলেন না আমাকে।
উনি পাঠালেন অন্য স্যারের কাছে।

ওনাকেও চিনি,
তবে ম্যামের অতটা নয়।
আসলে মেয়ে মানুষ যতটা মেয়েকে চেনে,
পুরুষকে চেনা সম্ভব কি!

আলাপচারিতায় বুঝেছি—
বাছাই পূর্বেই হয়।
মাথা ভর্তি জ্ঞান থাকলেও,
আকর্ষক কিছু না থাকলে
অনাহারে থাকা ওদের দু’চোখ
কীভাবে তৃপ্ত হয়?

ওরা জিজ্ঞেস করে,
জানতে চায় না।
ঠোঁট দুটোর সৌন্দর্যই উপভোগ করতে এসব।

স্যারেরা নাকি ডাকে রাত-বেরাতে—
যতটা খবর
দিদিদের দরুণ শোনা-শুনিতে।

আমার তখন গবেষণার নেশা,
পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ কম।
খোঁজ নেয় বারে বারে কেউ—
সে বিরক্তিতে ভেঙেছি প্রেম।
তখন ভাবনায় অন্য কথা,
মনে হয়েছে এগুলোই
স্বপ্নে বাধা,
প্রতিবন্ধকতা…

স্যার খুব ভালো,
পড়াতে ভালোবাসেন।
বরফের মতো উষ্ণ স্নেহে
গিয়েছে গলে
অত শত শোনা কথা—
তখন আমার কাছে মিথ্যে,
ভ্রান্ত ধারণা।

একদিন রাতে
স্যার গাড়ি পাঠালেন,
বললেন ওতে আসতে।
আমি দ্বিধাবোধ করিনি।
তাছাড়া যারা তুলতেন নৈতিকতা,
ওদের বলি না এসব।

গিয়ে দেখি শূন্য মহল—
কেউ কোথাও নেই।
আমায় দেখে মুচকি হাসি স্যারের,
কেমন একটু দুষ্টু হাসি।

হঠাৎই বিশ্বাস পূর্ণ অবিশ্বাসে—
কেমন যেন অন্য ছোঁয়া।
যেভাবে বন্যপ্রাণী টের পায় বিপদ,
নারীও টের পায়
পূর্বেই পুরুষের আক্রমণ…

সেদিন সেই জমে যাওয়া শরীর,
সেই চেনা মানুষের অচেনা রূপ—
আমি হরিণ হয়ে শিকার হলাম,
শিকারীকে ভেবে সখা।

সারা জঙ্গল শূন্য,
আমার আর্তনাদ—
সেদিন নিরবতা…

মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

ভিক্ষে

ওরা শখ করে পাখি পুষে
পুষে পোষ্যও
ওরা ছড়ায় দানা
পেট পাথর হলে
শ্রেণী সংগ্রাম তবুও বিভৎস
কেউ পেলে পায়
কেউ ফেরে নিরাশায়
কেউ আবার খিদে মেটাতে
নিজেদেরই খায়
মনিবের ভালো লাগে
অভাবেই তো আনুগত্য শেখায়…

ছুটে চলেছি এদিকে ওদিকে
দানা যদি পাই
মনিবেরা সব এক জাতির
এক থালাতেই খায়
আমরাই শুধু পথভ্রষ্ট
পেটে দুটো দানা চাই
দেখছি মনিব অনেক
ওরা আমাদের পুষেছে শখে
শোক বুঝে নাই…

রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

বিস্ময়

ভীষণ প্রশ্ন জাগে,
প্রায়ই এখন—
শৈশবে যেমন শিশুদের হয়।

বাড়ীতে টাঙানো দেওয়ালপঞ্জিকা,
কত শত ছবি আঁকা।
শুনেছি প্রায় কয়েক কোটি দেবী-দেবতা;
যদিও চোখে দেখিনি,
আমার বাবা-ঠাকুরদাও দেখেননি হয়তো।
তবুও শুনি, ঈশ্বর নাকি মানুষের শরীরে ভর করে,
যেমন ভর করে প্রেতাত্মা।

ঈশ্বরের আবার বিভাগ—
জাতি-ধর্ম ঘিরে ধরেছে ওখানেও।
মসজিদে আল্লাহ্,
যার শারীরিক কোনো রূপ কেউ দেখেনি;
তাই কবর—
ওখান থেকে শাসন চলে তার।

মন্দিরে গিয়ে দেখেছি,
কত শৈলীর দেব-দেবী;
পাথরে যাদের প্রাণ।
তাদের দেখতে—
দীর্ঘ লাইন।
ভক্তবৃন্দ শুনেছে,
ঈশ্বর নাকি উপবাসীদের
কথা শোনে—
তাই অনাহারে ব্রত…

প্রত্যেকের ঈশ্বর ভিন্ন।
পাথর পায় ছাদ,
পাথর পায় দুধ-পানি।
পাথরের ওপর কত প্রাণ
হয় বলি!
ঈশ্বরের কত খিদে—
জানি না আমি।
ওরা যারা পায় না খেতে,
আমাদের চোখে ওরা ভিখিরি।
তাই পাথর পায় খেতে,
শুধু পায় না ভিখিরি।

যে বা যারা ঈশ্বর,
কারো কাছে সেই খোদা।
আমরা আসলে ঈশ্বর চিনি না—
তাই যে যা দেখায়, তা’ই বিশ্বাস।

উন্মোচন

বৈবাহিক সংলাপ

অর্ধশতকের অর্ধেক বসন্ত পার হয়ে গেছে, মুখে তার ছাপ ভাসমান। তবে আধার ভিন্ন কথা বলে— ওখানে আমি এখনও তরুণ। ছোটোবেলায় বলতো বাবা-মায়ে, “কয়েক ব...

শীর্ষপাঠ