বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬

সেনোরিটা

আবার বছর পরে,
পশু-পোষ্যের ভিড়ে,
পর্ণমোচী গাছে গাছে,
নতুন পাতা জুড়ে।

গোপিনী গোপন,
যত কিছু,
দিয়েছি মুছে।
হাত বাড়িয়ে রয়েছি,
এখন
সেনোরিটা’র খোঁজে…

নয়ন খুঁজি তেমন,
যেমন চোখের পাতার কাজল,
স্পষ্ট করে আমার জ্যোতি।
জ্যোৎস্না রাতে,
স্নিগ্ধ সৈকতে,
মুক্ত ভেবে তোমাকে চুমি।
তোমার কালো কেশ
ভাবায় আমায়—
সাগরের পানি,
অন্ধকারাচ্ছন্ন অরণ্য,
নক্ষত্র বিহীন আসমান,
আমি তোমাকে দেখি।
জ্বলে ওঠে আমার দেশ,
ওতে পুড়ে আমি শেষ।
প্রেম তবুও অমৃত-সুধা;
পাওয়া না পাওয়া, অন্য কথা।
ভালোবাসা থাকবে গাঁথা।

তোমার আঙুলের নখরঁজনী,
আমার চোখে রামধনু জানি।
প্রতি প্রাতঃ রজনী,
আঁখি খোঁজে সজনী।
তোমার অষ্ঠের আঁচড়
বুকে রেখেছে দাগ…

ওকে কখনো চিনতাম না।
কখনো ওকে বলিনি ডেকে।
ভালোবাসা পেতে গিয়ে,
যদি হারাতে হয় তাকে,
তাই গোপন ছিল সব।
আজও আছে।
ও জানে,
জানি আমিও।
না বলেই বেশ ভালো আছি,
সেনোরিটা’র কাছাকাছি…

বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬

পরদেশ

অসহায় মানুষ বোঝে না
নিয়ম-কানুন।
ওরা জানে না
বিভাগ-বিভাজন।
ওদের কেউ বলেনি,
বাঁচতে হলে
বাছতে হবে।
ঠিকানা আসে পাশেই;
ভুলক্রমে সীমানা পেরোলে,
জান বাঁচাতে গিয়ে
খোয়াতে হতে পারে

আবু মিঁয়া,
জীবিকার টানে
এভাবেই এসেছিল এখানে।
দ্বিখণ্ডিত হওয়ার আগে
পরিবার ছিল এখানেই।
তারপর একে একে
চলে যেতে হয়েছে।
আজ দুই দশকের বেশি
এ জমিনে আছি।

ওদের যা আছে, দিয়েছি সব।
আমি বুঝি না ওসব—
উকিল-ওকালত।
ওরা বলে,
“এগুলো কোনোটাই প্রমাণ নয়
নাগরিকত্বের।”

বলুন,
তবে কী দেখাই?
প্রমাণ দেখাতে
দেখাবো খুন?

যতদূর জানি,
সবার খুন এক।
তবুও কয়েকের প্রতারণাতে
শুনতে হয় প্রতারক।

মুসলিমের ঘরে জন্মানো হারাম?
মুসলিম শুধু বাংলাদেশ ও পাকিস্তানেই জন্মায়?

রাজার আদেশ—
উচ্ছেদ।

মুখ তুলে বলবি,
কোন মুখে?

তোর গড়া ভিটেমাটি
গুঁড়িয়ে দেবে বুলডোজার।
ফিরে যাবি সেথা,
যেথা ছিলি
তুই এককালে।

কপালে লেখা—
নাগরিক তুই ও দেশের।
পরদেশে ঠাঁই পাবি কী করে?

শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬

আগন্তুক

চেনা ভিড়, চেনা মানুষ,
অচেনা ব্যবহার।
সংশয় হয়—
চোখ বুঝি হারাচ্ছে দৃষ্টি।
যদি তা না হয়,
তবে কেন মনে হয়—
অপরিচিত ব্যক্তি?

কোনঠাসা দেশ,
নেই কোনো বিদ্বেষ।
গড়তে ব্যস্ত প্রত্যেকে
স্বদেশ।
সন্ধি বাঁধে যে যার,
ডাক ওঠে
সম্মেলনের।
ব্রহ্মাণ্ডের প্রতিটি গ্রহ,
নক্ষত্র,
চেনে কক্ষপথ…

পুরোনো চাল ভাতে বাড়ে,
লিখন দেখেছি কত দেয়ালে।
তবু মানুষ নতুন কেনে,
নতুন ভীষণ কাছে টানে।
পুরোতন যা কিছু,
ক্ষয়ে যায়,
মরচে ধরে।
অতে আবার রঙ করে
এনেছি ফিরিয়ে।
এখন সব
নতুন লাগে…

শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬

জ্বালা

ভোর হতেই গিয়েছি ছুটে,
দাঁড়িয়েছি লাইনে।
অনেকেই আছে,
রাত থেকে
শুয়ে পড়েছে কোণাতে।

সময় যত গড়ায়,
ভিড় বাড়ে আরো
থেকে আরো…
দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে আছি;

ঘড়িতে তখন দশটা বাজে।
সাহেবরা এলেন অবশেষে—
“দেখুন,
পঞ্চাশের বেশি
তো,
আজ হবে না।
বাকিরা চলে যান,
আগামীকাল আসুন।”

ওই যে লোকটা, যে জেগেছিল
সারা রাত,
চোখ একটু লেগেছিল
ভোরে—
সে-ই এখন পঞ্চাশের ওপারে।
যে ছুটছে চারিদিক,
কখনও ব্যাঙ্কে,
কখনও আধার সেন্টারে;

ওরা বলে, “ফোন নম্বর বলুন,
আধারের সঙ্গে যুক্ত করবেন যে...”
উনি বলেন, “বাবু, আমার তো ফোন নেই।
ছেলেকে চেয়েছিলাম,
বলেছিলাম লিখে দিতে।
বললো, ‘তোদের আর দরকার নেই,
সেই তো বাঁচবি ক’দিন!
এত লিঙ্ক করে আর কাজ নেই’”

যখনই ব্যাঙ্কে যাই,
সেখানেও লাইন সুবিস্তীর্ণ।
কেউ বসে আছে সকাল থেকে,
কেউ এসেছে আরও আগে,
না খেয়ে।

জরাজীর্ণ শরীর—
এক বৃদ্ধ ও বৃদ্ধা।
বলে, “আমাদের সংসার
চলে
পেনশনে।
শুনলাম, কী লিঙ্ক নেই!
বললো, ছোটো ব্যাঙ্কে—
তোমরা বড়ো ব্যাঙ্কে যাও,
ওরা করে দেবে;
নয়তো পেনশন পাবে না আর।
তাই আর খাই কীভাবে?
ঘুমোইনি কেউই
গত রাতে,
ভাবনাতে।

ছেলে-মেয়েরা ওদের মতো,
আমরা ভিন থাকি,
ভিন খাই-মাখি।
কেউই জিজ্ঞেস করে না,
মুখ ফুটে,
বাপ-মা বেঁচে আছে
নাকি মরে গেছে...”

ওরা, যারা ওপরে থাকে,
মহলের মানুষ,
বোঝে না জ্বালা।
না জানলে কিছু,
খেতে হয় অবহেলা।

এ বলে, “ওখানে যাও”,
ও বলে, “এখানে নয়,
ওখানে।”

এভাবেই কাটে বেলা,
শূন্য পেটে।

বেলা শেষে
নিয়ে ফিরি
জোড়া পাঁচশো টাকা।

অর্পিতার পার্থ সাক্ষাৎ - "এ স্ক্যান্ডাল দ্যাট রেইজড্ দ্য নইজ আউটসাইড দ্য রুম"

সম্পর্কে জড়িয়েছি
আর্থিক প্রলোভনে।
সঙ্গম, সঙ্গতিহীন—
তবুও
নিষ্কল শরীরে
হতে হয়েছে কাত বারংবার।

নেশা ভীষণ বাজে,
যেমন টাকার শব্দ বাজে
কানের গোড়ালিতে।
ঘুম হয় না রাতে,
প্রতিবেশী কামরার
খাটের শব্দপাতে।

কখনো যদি প্রেমিক
দাবি নাই রাখে,
খেলতে হয় খেলনা নিয়ে—
ফিরে যাই শৈশবে,
মন-ভোলানিতে,
নিজ কবিরাজিতে;
জ্বর নাহি কমে...

আমার জুড়িরা বলত প্রায়ই—
“বড়ো মাছ ধরবি ধরলে;
প্রেম তো কানামাছি খেলা,
ওতে কখনো হারাবি না।”

ওরা প্রত্যেকেই বোঝে;
তাই তারা নিয়েছে খুঁজে—
চার দেয়ালে কার কত গল্প,
কার কত আলাপ-প্রলাপ।

টাকাওয়ালা লোকের 
বয়স হয় না।
ওরা কিনে নেয় শরীর—
আমার মতো অপরূপা,
যারা
প্রতিনিয়ত বিক্রি হয়
চড়া দরে।

কারো খদ্দের এক,
কারো আবার
একাধিক ঘোরে।

লোকেরা তো জানে না সব;
জানে শুধু তাকে,
যে ধরা পড়ে...

আমার মস্ত বড়ো ভুল—
ভেঙেছে মাস্তুল।
বিশ্বাস করে ওরে,
প্রিয় সখারে,

নিজেকে বাঁচাতে সে
বলি দিল আমাকে...

মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬

কবি

কেউ ছোটো থেকে,
কেউ আবার কিশোরকালে,
কেউ কাঁচা যৌবনে,
কেউ পৌঢ়দশায় লেখাকে
সঙ্গী করে নেয়…

কারো কবিতায় প্রাণ পায় নিস্তব্ধ জগৎ,
কারো কবিতায় ওঠে গোপন
গহিন প্রেম,
বিরহ।
কেউ আবার সব হারিয়ে,
হারানোকেই ভেবে বসে
প্রাপ্তি…

কবিতা প্রাক্তন,
তবুও তারে ভুলে নাই পারি।
লিখতে গেলে অলি-গলি,
অনিয়ন্ত্রিত হয়ে জড়িয়ে ফেলি।
চাঁদে দেখি তার রূপ—
আহা! কী অপরূপ!
কার অঙ্গে কাকে দেখি,
কার চোখে এঁকে ফেলি কাকে!
মহিমার ঠোঁট ছুঁতে গিয়ে,
কামড়েছি নিজেই নিজের
ঠোঁটে আর জিভে…

লিখেছি বই,
লিখছি এখনও অদম্যভাবে।
কত বইমেলা,
কত কবিতা-মেলায়
অতিথি গিয়েছি আমি।
কত কত উচ্চস্তরের
নামি-দামি মানুষের ভিড়ে,
নিজেকে আমি দিয়েছি হারিয়ে;
কবিতাকে আমার সর্বস্ব ভেবে,
বিমুখ আমি গ্রাহস্থ্য থেকে।

এত খ্যাতি চারিদিকে,
সারা জেলা চেনে আমাকে।
শুধু এতকাল পরে,
এখন যখন বসি ব্যস্ততার
প্রাক্ কিংবা পশ্চাতে,
নিজেকে ভীষণ নিঃসঙ্গ লাগে।

যাকে নিয়ে রেখেছি পণ,
সে তো ধরে রেখেছে শুধুই আমায় না,
আরও অনেকের মন।
আর আমি তাঁকে সঙ্গী করে
দোহাই দিয়েছি যৌবন।

ওরা, যারা আদর্শ আমার—
কেউ কেউ বিবাহিত,
কারোর বিবরণ ব্যক্তিগত।

আমি যে হতে চেয়েছিলাম
‘চিরকুমার’!

আজ নিঃস্ব অঙ্গ
করে অঙ্গীকার—

যারা দাবি করে
‘অবিবাহিত চিরকাল’,
তারা ফুল তোলে,
সুবাস নেয়,
গৃহে তোলে না।

আমার মতো কবি হও,
কিন্তু মনে রেখো—
কবিতা শুধু তোমার না।

শনিবার, ৯ মে, ২০২৬

বৈবাহিক সংলাপ

অর্ধশতকের অর্ধেক বসন্ত
পার হয়ে গেছে,
মুখে তার ছাপ ভাসমান।
তবে আধার ভিন্ন কথা বলে—
ওখানে আমি এখনও তরুণ।

ছোটোবেলায় বলতো বাবা-মায়ে,
“কয়েক বছর তোর রেখেছি কমিয়ে।”
ওরা যারা জানতে চাইবে বয়স,
দেখে যাই মনে হোক না,
প্রমাণপত্র আছে…

তখন আমার পোড়া বয়স,
কনে দেখতে গেছি।
সংসারের বেহাল দশা,
সামলাতে লোক চাই বইকি।
পাত্রীকে কিছু জিজ্ঞেস করার পূর্বেই
প্রশ্ন একাধিক।
পাত্রীর বাবা হেসে বলে,
“আচ্ছা, বাবা! করো কী?
বেতন কত?
আবাসিক বাড়ীটি কাঁচা,
নাকি পাকা?
আহারে খাও কী তিনবেলা?”

আরও প্রশ্ন ভারি ভারি,
কান ভারী।
মনে হয়, কিনতে এসেছি কিছু—
তারই এত দরা-দরি।

সরকারী চাকুরে নাহলে
কেউই চায় না
মেয়ে দিতে।

মানুষ বর্তমান নয়,
ভবিষ্যৎ দেখে বেশি।
তাই সম্মান শুধু তারা পায়,
যারা চাকুরেবেশী…

বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬

শিকার

চারিদিকে বাঘের পায়ের ছাপ।
বন বিভাগ থেকে খবর—
একটি বাঘ ও বাঘিনী,
সঙ্গে শাবক,
প্রবেশ করেছে জঙ্গলে।

কারো বুকে ভয়,
কারো বুকে উচ্ছ্বাস।
লাখে লাখে মানুষ, পর্দা এড়িয়ে,
সচক্ষে বাঘ দেখতে
ছুটোছুটি শুরু করেছে।

হরিণদের ভীষণ ভয়—
সব মাংসাশী প্রাণী
একই জঙ্গলে!
কীভাবে বাঁচাবে তাঁরে
ও সন্তানেরে?
হয় বাঘ, না’হয় মানুষ—
পড়তে হবে দু’য়ের এক খপ্পরে।
প্রাণপণে ছুটোছুটি,
শিকারীরা ক্রমশ আসে এগিয়ে;
সারা জঙ্গল ঘেরাটোপে।
দুই পাশ দিয়ে দু’জন ছুটে আসে—
দুইয়ের থেকে রক্ষার উপায়
নেই…

হরিণেরা এখন আক্রান্ত,
ভয়ে
জঙ্গলজুড়ে যত প্রাণী।
বিশ্বাস এখন ঠুনকো বস্তু।
কেউ জানে না—
কে শিকারী,
কে হতে চলেছে শিকার।
ভয় তাই বুকে নিয়ে,
নিজেকে বাঁচাতে
প্রাণপণে
বাজি রাখে সন্তান…

মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬

রাজা রাণী বাদশা

রাজা-রাণীদের পাশা খেলায়,
আমোদ-প্রমোদে,
আমরাই হয়ে উঠি পাশা—
নর্তক-নর্তকী।
আমাদের কাতর অঙ্গ
অপেক্ষারত থাকে;
রাজাদের স্পর্শ-চাদর
যদি কখনো ঢাকে…

রাজা-রাণী বদলায়,
বংশানুক্রমিক,
কিংবা
নতুন রাজা
গড়ে আস্তানা
আক্রমণে।
আমরা থাকি এক,
যেমন থাকে স্তব্ধ
সাম্রাজ্য পড়ে…

আমরা অবোধ;
ভাই-ভাইয়ে বিরোধ,
প্রতিবেশী রাখে না যোগাযোগ।
কয়বার করেছিলাম
মোড়লের বিরুদ্ধে অভিযোগ—
ওই থেকে এমন।
সাম্রাজ্যবাদীরা গড়ে দেয় বিভাজন;
একে পারে না অপরকে সইতে।
চক্রান্ত চলে ভাইয়ে-ভাইতে,
ওদের শৌখিন সাম্রাজ্য গড়তে
আমরা মেরে চলি একে-অপরকে…

শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬

আঁতাত

ফেলে আসা গ্রাম,
শৈশবের কবর—
খুঁজতে যাই প্রায়শঃ।

যাদের জড়িয়ে বাহুডোরে
ঘুরেছি এককালে,
এখন সব অপরিচিত মুখ—
মূর্ছা গেছে...
আঁতাত।

ভুল ভীষণ হয় মানুষের;
যে যারে চায়, পায় না।
যে চায়, সে দ্বারে যায় না।
প্রত্যেকের লক্ষ্যে চাঁদ—
ছুঁতে, তা-ই হয়তো ভালো লাগে,
যা ছোঁয়া যায় না...

শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬

যারা গেছে চিরতরে

ভোলা মন প্রত্যেকেরই
কেউ সময় নেয় স্বল্প
কেউ দীর্ঘবর্ষ

যারে আগলে বেঁচেছে 
মা-বাবা
কোল খালি হলে অসময়ে
বুক পুড়ে পাথর হয়
তবে পিতৃ-মাতৃহীন হলে
সন্তান মুক্ত হয়
জঞ্জির থেকে
কাঁধের বোঝা নামলে
যেমন তৃপ্তি শ্রমিকের

যারা যায়
যায় চিরতরে
মনে পড়ে ক্ষণিকের
ক’দিন
আবছা ছবি
অস্পষ্ট হতে হতে
হারিয়ে যায় নীরব-নীরবে…

শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

ঋণ

ভ্রূণ যেদিন পূর্ণতা পায়
সম্পূর্ণরূপে প্রাণে,
প্রেম জোটে কখনো
কারো ত্রাণে।
দু’মুঠো খাই,
পরি শৌখিন কিছু
কারো দানে।
আমার তরণী নিমজ্জিত
ভারে…

কথার শূলিতে চড়ায় কেউ,
কেউ ইতরামি করে—
“শালার মুরোদ কী?
আমি ছাড়া জুটতো মেয়ে,
পেতো কি কখনো খেতে?
দু’টাকা কামায় আমার কৃপায়,
আমাকে ফুটোনি করে!”

ঋণ নামক ঝড়ে
উড়ে এসেছি আজ এত দূরে।
ঋণী যার কাছে,
চেয়ে পারি না মুখ ফেরাতে—
শব্দবাজি এখন ভীষণ বাজে…

বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

উচ্চ বৃত্তি - এক নারীর আত্মকথা


স্বপ্ন ছিল আকাশসমান,
ইচ্ছে ছিল ছোঁবো।
বাবা-মা তাই বিয়ের কথা
তোলেনি একবারও।

একে একে স্নাতক,
স্নাতকোত্তর—
সম্পূর্ণ হয়ে গেছে।
ফল করেছি ভালো,
তাই বাবা-মা খুশি,
গর্বিত।

এই বছর জাতীয় যোগ্যতা পরীক্ষায়
জুনিয়র রিসার্চ ফেলোশিপ পেয়েছি।
ভাষায় বোঝানো মুশকিল—
আমি আত্মহারা…

আমায় বিশ্ববিদ্যালয়ে
যে ম্যামটি স্নেহ করতেন খুব,
আমি পৌঁছালাম ওনার কাছে।
উনি খুব বাহবা দিলেন,
কিন্তু নিলেন না আমাকে।
উনি পাঠালেন অন্য স্যারের কাছে।

ওনাকেও চিনি,
তবে ম্যামের অতটা নয়।
আসলে মেয়ে মানুষ যতটা মেয়েকে চেনে,
পুরুষকে চেনা সম্ভব কি!

আলাপচারিতায় বুঝেছি—
বাছাই পূর্বেই হয়।
মাথা ভর্তি জ্ঞান থাকলেও,
আকর্ষক কিছু না থাকলে
অনাহারে থাকা ওদের দু’চোখ
কীভাবে তৃপ্ত হয়?

ওরা জিজ্ঞেস করে,
জানতে চায় না।
ঠোঁট দুটোর সৌন্দর্যই উপভোগ করতে এসব।

স্যারেরা নাকি ডাকে রাত-বেরাতে—
যতটা খবর
দিদিদের দরুণ শোনা-শুনিতে।

আমার তখন গবেষণার নেশা,
পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ কম।
খোঁজ নেয় বারে বারে কেউ—
সে বিরক্তিতে ভেঙেছি প্রেম।
তখন ভাবনায় অন্য কথা,
মনে হয়েছে এগুলোই
স্বপ্নে বাধা,
প্রতিবন্ধকতা…

স্যার খুব ভালো,
পড়াতে ভালোবাসেন।
বরফের মতো উষ্ণ স্নেহে
গিয়েছে গলে
অত শত শোনা কথা—
তখন আমার কাছে মিথ্যে,
ভ্রান্ত ধারণা।

একদিন রাতে
স্যার গাড়ি পাঠালেন,
বললেন ওতে আসতে।
আমি দ্বিধাবোধ করিনি।
তাছাড়া যারা তুলতেন নৈতিকতা,
ওদের বলি না এসব।

গিয়ে দেখি শূন্য মহল—
কেউ কোথাও নেই।
আমায় দেখে মুচকি হাসি স্যারের,
কেমন একটু দুষ্টু হাসি।

হঠাৎই বিশ্বাস পূর্ণ অবিশ্বাসে—
কেমন যেন অন্য ছোঁয়া।
যেভাবে বন্যপ্রাণী টের পায় বিপদ,
নারীও টের পায়
পূর্বেই পুরুষের আক্রমণ…

সেদিন সেই জমে যাওয়া শরীর,
সেই চেনা মানুষের অচেনা রূপ—
আমি হরিণ হয়ে শিকার হলাম,
শিকারীকে ভেবে সখা।

সারা জঙ্গল শূন্য,
আমার আর্তনাদ—
সেদিন নিরবতা…

মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

ভিক্ষে

ওরা শখ করে পাখি পুষে
পুষে পোষ্যও
ওরা ছড়ায় দানা
পেট পাথর হলে
শ্রেণী সংগ্রাম তবুও বিভৎস
কেউ পেলে পায়
কেউ ফেরে নিরাশায়
কেউ আবার খিদে মেটাতে
নিজেদেরই খায়
মনিবের ভালো লাগে
অভাবেই তো আনুগত্য শেখায়…

ছুটে চলেছি এদিকে ওদিকে
দানা যদি পাই
মনিবেরা সব এক জাতির
এক থালাতেই খায়
আমরাই শুধু পথভ্রষ্ট
পেটে দুটো দানা চাই
দেখছি মনিব অনেক
ওরা আমাদের পুষেছে শখে
শোক বুঝে নাই…

রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

বিস্ময়

ভীষণ প্রশ্ন জাগে,
প্রায়ই এখন—
শৈশবে যেমন শিশুদের হয়।

বাড়ীতে টাঙানো দেওয়ালপঞ্জিকা,
কত শত ছবি আঁকা।
শুনেছি প্রায় কয়েক কোটি দেবী-দেবতা;
যদিও চোখে দেখিনি,
আমার বাবা-ঠাকুরদাও দেখেননি হয়তো।
তবুও শুনি, ঈশ্বর নাকি মানুষের শরীরে ভর করে,
যেমন ভর করে প্রেতাত্মা।

ঈশ্বরের আবার বিভাগ—
জাতি-ধর্ম ঘিরে ধরেছে ওখানেও।
মসজিদে আল্লাহ্,
যার শারীরিক কোনো রূপ কেউ দেখেনি;
তাই কবর—
ওখান থেকে শাসন চলে তার।

মন্দিরে গিয়ে দেখেছি,
কত শৈলীর দেব-দেবী;
পাথরে যাদের প্রাণ।
তাদের দেখতে—
দীর্ঘ লাইন।
ভক্তবৃন্দ শুনেছে,
ঈশ্বর নাকি উপবাসীদের
কথা শোনে—
তাই অনাহারে ব্রত…

প্রত্যেকের ঈশ্বর ভিন্ন।
পাথর পায় ছাদ,
পাথর পায় দুধ-পানি।
পাথরের ওপর কত প্রাণ
হয় বলি!
ঈশ্বরের কত খিদে—
জানি না আমি।
ওরা যারা পায় না খেতে,
আমাদের চোখে ওরা ভিখিরি।
তাই পাথর পায় খেতে,
শুধু পায় না ভিখিরি।

যে বা যারা ঈশ্বর,
কারো কাছে সেই খোদা।
আমরা আসলে ঈশ্বর চিনি না—
তাই যে যা দেখায়, তা’ই বিশ্বাস।

শুক্রবার, ২ জানুয়ারি, ২০২৬

আবার প্রেম

হৃদয়ের অমোঘ আকর্ষণে
সেদিন ফিরলাম অতীতে
এর আগেও ফিরেছি
বহুবার
নিশিযাপনে…
বিচ্ছেদের দিন 
মাস গড়াতে গড়াতে
আজ কয়েক বছর প্রায়
যোগাযোগ করিনি কেউ
ইচ্ছে করেই
মাঝে মাঝে
টান বাড়ে আরো
সমুদ্রে বাড়ে জোয়ারের উচ্ছাস
চোখের পানি মুছে যায়
পড়ে থাকে লবণাক্ততা…

মনে পড়ে সেদিন
ফাল্গুনের রাত
বুকে সুনামির কোলাহল
ঘুমোতে পারছি না…
তখন তার চোখে আমার কোনো ছবি নেই
বুকে কোনো আঁচড় নেই
মস্তিষ্কের কোনো অংশই আমার দখলে নেই
দু’চোখে তখন স্বপ্নের সোহাগ
সোনার সংসার গড়ার লক্ষ্যে
তরীতে উঠিবে সোহাগিনী
প্রেম নামক চিতার ওপর
বসেছে আসর
সিঁদুরদান…

আমার দখলে কিছু নেই
ছিলও না কখনো
তবুও হৃদয় ভাবে
হারিয়েছি কিছু
হয়তো ঠিকানা 
নয়তো নিজেকে
হারিয়ে
আমি বেসাহারা…

উন্মোচন

সেনোরিটা

আবার বছর পরে, পশু-পোষ্যের ভিড়ে, পর্ণমোচী গাছে গাছে, নতুন পাতা জুড়ে। গোপিনী গোপন, যত কিছু, দিয়েছি মুছে। হাত বাড়িয়ে রয়েছি, এখন সেনোরিটা’...

শীর্ষপাঠ