সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬

হুজুকে বিয়ে

বছর বছরের প্রেম টেকে নাই,
আর আমাদের ছয় মাস
সম্পর্ক—
পরিণতি বিয়ে।

কথায় হয় না,
সময়ের দীর্ঘতা
কখনো প্রমাণ করে না
প্রেমের গভীরতা।

উড়তি যৌবনে হুজুক জাগে,
বিয়ে টিয়ে নিয়ে খেলেছি
বহু আগে,
ছোটোবেলাতে।

আজও হয়তো সেই খেলা ভেবে
করে নিয়েছি বিয়ে,
উদ্দীপিত হয়ে।

কার কত গল্প!
কেউ অসহায়,
হাতে কাজ নাই।
প্রেমিকাকে নিয়ে পালিয়ে
গোপনে সেরেছে বিয়ে।

যার মাথা রেখে বুকে
অনুভব করেছে শান্তি,
এখন দু’চোখ অশান্ত,
অস্থির।

খুঁজতে হবে কাজ,
খুঁজতে হবে আস্তানা।
এখন বুঝে গেছে অবুঝ মন—
দু’আনা যারে তুচ্ছ ভাবতাম,
আজ ক্যামনে হয়…

আগে থেকে সিদ্ধান্ত ছিল না
বাবা হওয়ার।
বিয়ের পর কেউ খেলে
বারোমাস
বিছানায়,
কেউ আবার অধিক উত্তেজিত হয়ে
বাবা হয়।
নতুন বউ
মা হলে বাবার দায়িত্ব
বাড়ে।

কখনোও হয় এমন—
একে যখন অর্ধাঙ্গীর মন নাই ভরে,
পরকীয়ার বীজ বপন হয় গোপনে।
যে কখনো দেখেনি এমন স্বপনে,
আমার প্রিয়তমা এমনটা করতে পারে!
কে বোঝায় ওরে,
যে উজাড় করে নিঃসম্বল
সত্য মেনে নিতে পারে!

নিজের কিছু নেই।
নিজের যা কিছু
বেচা হয়ে গেছে।

ভালোবাসা চিরকাল নাই বাঁচে…

শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬

চিৎকার

মানুষের দিন কাটে খেটে।
কেউ কথা বলে বেশী,
কেউ বলে কম।
কে জানে ছায়া জীবন?
যারা জানে, তারা থামে।
কেউ তবুও
দৌড়ায় চারিদিকে,
হাতেলিতে জীবন নিয়ে…

বেঁচে থাকতে পৃথিবীতে
পাগল পড়ে থাকে
অলিতে, গলিতে।
কারে বলে সে আঘাতের কথা?
কে বোঝে বেদনার ব্যথা?
কে কান পেতে শোনে আর্তনাদ…

পড়াশোনায় ভালো হলেই
চাকরি নিশ্চিত—
গ্রামগঞ্জে এই গুঞ্জনই
করে কলরব।

প্রেম বাঁচে,
প্রাণে বাঁচে,
ভালোবাসা বাঁচে
বেচে নিজেকে…
খেটে খেটে মানুষ হারায়
সংসারের ঘানি টেনে।
দিন চলে যায়।

অতীতের প্রেম
এখন অগ্নিগর্ভ।
হৃদয় কবেই হয়েছে দগ্ধ।
একসময়
যারে না দেখে কাটতো না দিন,
এখন দু’চোখে বিষের সমান।

মানুষের ভালোলাগা পরিবর্তনশীল।
ভালোলাগা থেকে ভালোবাসায় আসা যায়,
সময় লাগে ঠিকই।
“তোমায় ছাড়া বাঁচবো না”—
তুমি বদলে যায়।

দিশেহারা মানুষ
শূন্য কন্ঠে
কোন সুর পায়?

অভিনেতা থেকে নেতা-নেত্রী হয়।
নেতা-নেত্রী সচরাচর
পর্দায় আসে না।
পর্দার আড়ালে এক বৃহৎ জগৎ…

কেউ বেঁচে থাকতে
বেচে দেয়,
কেউ বেচে বেচে
বাঁচে।

রাতের আঁধারে
বাড়ে
চিৎকার।

কে ডাকে কাকে?
যেথা অন্ধকার আঁধারে
নীরব
চেনে না
নিজেই নিজেরে…

বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬

প্রতিবাদ

রণক্ষেত্র চারিদিকে,
অনেকে প্রস্তুত
মাথা কিনে নিতে।
যাদের করেছি নির্বাচন,
তারাই চেনে না এখন।
রঙ চেনা দায়—
কে কীসে মিশে আছে!
জল কেউ দিলে,
মনে হয়, ওতেও বিষ।
বিশ্বাসে এখন বিষ
মিশে গেছে…

যারা সুরক্ষার দায় রাখে
আলোতে,
অন্ধকারে ওরাই দানব।
কাদের ওপরে রাখবে বিশ্বাস?
কে আছে আমাদের পাশে?
প্রত্যেকে শুধু নিজেকে দেখে;
পরের তরে কে ক’জন ভাবে?
ভাবতে গেলেই লোকে
মতলব খোঁজে—
‘নিশ্চয়ই কোনো প্রোপাগান্ডা!’

রাজা-রাণীর মোহে গিয়েছি হারিয়ে।
ওরা বড়লোক;
ওদের বিরুদ্ধে গেলে ঝামেলা আছে।
নিজেকে তাই রেখেছি লুকিয়ে।
যা হবে, অবশেষে—
সুফল-কুফল, যা-ই হোক,
ভোগে কে বাধা দেবে!
আমরা গোলাম ছিলাম,
আছি,
থাকব।
অত শত ঝামেলায় কেন জড়াবো?

বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬

সেনোরিটা

আবার বছর পরে,
পশু-পোষ্যের ভিড়ে,
পর্ণমোচী গাছে গাছে,
নতুন পাতা জুড়ে।

গোপিনী গোপন,
যত কিছু,
দিয়েছি মুছে।
হাত বাড়িয়ে রয়েছি,
এখন
সেনোরিটা’র খোঁজে…

নয়ন খুঁজি তেমন,
যেমন চোখের পাতার কাজল,
স্পষ্ট করে আমার জ্যোতি।
জ্যোৎস্না রাতে,
স্নিগ্ধ সৈকতে,
মুক্ত ভেবে তোমাকে চুমি।
তোমার কালো কেশ
ভাবায় আমায়—
সাগরের পানি,
অন্ধকারাচ্ছন্ন অরণ্য,
নক্ষত্র বিহীন আসমান,
আমি তোমাকে দেখি।
জ্বলে ওঠে আমার দেশ,
ওতে পুড়ে আমি শেষ।
প্রেম তবুও অমৃত-সুধা;
পাওয়া না পাওয়া, অন্য কথা।
ভালোবাসা থাকবে গাঁথা।

তোমার আঙুলের নখরঁজনী,
আমার চোখে রামধনু জানি।
প্রতি প্রাতঃ রজনী,
আঁখি খোঁজে সজনী।
তোমার অষ্ঠের আঁচড়
বুকে রেখেছে দাগ…

ওকে কখনো চিনতাম না।
কখনো ওকে বলিনি ডেকে।
ভালোবাসা পেতে গিয়ে,
যদি হারাতে হয় তাকে,
তাই গোপন ছিল সব।
আজও আছে।
ও জানে,
জানি আমিও।
না বলেই বেশ ভালো আছি,
সেনোরিটা’র কাছাকাছি…

শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬

পরদেশ

অসহায় মানুষ বোঝে না
নিয়ম-কানুন।
ওরা জানে না
বিভাগ-বিভাজন।
ওদের কেউ বলেনি,
বাঁচতে হলে
বাছতে হবে।
ঠিকানা আসে পাশেই;
ভুলক্রমে সীমানা পেরোলে,
জান বাঁচাতে গিয়ে
খোয়াতে হতে পারে

আবু মিঁয়া,
জীবিকার টানে
এভাবেই এসেছিল এখানে।
দ্বিখণ্ডিত হওয়ার আগে
পরিবার ছিল এখানেই।
তারপর একে একে
চলে যেতে হয়েছে।
আজ দুই দশকের বেশি
এ জমিনে আছি।

ওদের যা আছে, দিয়েছি সব।
আমি বুঝি না ওসব—
উকিল-ওকালত।
ওরা বলে,
“এগুলো কোনোটাই প্রমাণ নয়
নাগরিকত্বের।”

বলুন,
তবে কী দেখাই?
প্রমাণ দেখাতে
দেখাবো খুন?

যতদূর জানি,
সবার খুন এক।
তবুও কয়েকের প্রতারণাতে
শুনতে হয় প্রতারক।

মুসলিমের ঘরে জন্মানো হারাম?
মুসলিম শুধু বাংলাদেশ ও পাকিস্তানেই জন্মায়?

রাজার আদেশ—
উচ্ছেদ।

মুখ তুলে বলবি,
কোন মুখে?

তোর গড়া ভিটেমাটি
গুঁড়িয়ে দেবে বুলডোজার।
ফিরে যাবি সেথা,
যেথা ছিলি
তুই এককালে।

কপালে লেখা—
নাগরিক তুই ও দেশের।
পরদেশে ঠাঁই পাবি কী করে?

উন্মোচন

হুজুকে বিয়ে

বছর বছরের প্রেম টেকে নাই, আর আমাদের ছয় মাস সম্পর্ক— পরিণতি বিয়ে। কথায় হয় না, সময়ের দীর্ঘতা কখনো প্রমাণ করে না প্রেমের গভীরতা। উড়তি যৌব...

শীর্ষপাঠ