শনিবার, ৯ মে, ২০২৬

বৈবাহিক সংলাপ

অর্ধশতকের অর্ধেক বসন্ত
পার হয়ে গেছে,
মুখে তার ছাপ ভাসমান।
তবে আধার ভিন্ন কথা বলে—
ওখানে আমি এখনও তরুণ।

ছোটোবেলায় বলতো বাবা-মায়ে,
“কয়েক বছর তোর রেখেছি কমিয়ে।”
ওরা যারা জানতে চাইবে বয়স,
দেখে যাই মনে হোক না,
প্রমাণপত্র আছে…

তখন আমার পোড়া বয়স,
কনে দেখতে গেছি।
সংসারের বেহাল দশা,
সামলাতে লোক চাই বইকি।
পাত্রীকে কিছু জিজ্ঞেস করার পূর্বেই
প্রশ্ন একাধিক।
পাত্রীর বাবা হেসে বলে,
“আচ্ছা, বাবা! করো কী?
বেতন কত?
আবাসিক বাড়ীটি কাঁচা,
নাকি পাকা?
আহারে খাও কী তিনবেলা?”

আরও প্রশ্ন ভারি ভারি,
কান ভারী।
মনে হয়, কিনতে এসেছি কিছু—
তারই এত দরা-দরি।

সরকারী চাকুরে নাহলে
কেউই চায় না
মেয়ে দিতে।

মানুষ বর্তমান নয়,
ভবিষ্যৎ দেখে বেশি।
তাই সম্মান শুধু তারা পায়,
যারা চাকুরেবেশী…

বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬

শিকার

চারিদিকে বাঘের পায়ের ছাপ।
বন বিভাগ থেকে খবর—
একটি বাঘ ও বাঘিনী,
সঙ্গে শাবক,
প্রবেশ করেছে জঙ্গলে।

কারো বুকে ভয়,
কারো বুকে উচ্ছ্বাস।
লাখে লাখে মানুষ, পর্দা এড়িয়ে,
সচক্ষে বাঘ দেখতে
ছুটোছুটি শুরু করেছে।

হরিণদের ভীষণ ভয়—
সব মাংসাশী প্রাণী
একই জঙ্গলে!
কীভাবে বাঁচাবে তাঁরে
ও সন্তানেরে?
হয় বাঘ, না’হয় মানুষ—
পড়তে হবে দু’য়ের এক খপ্পরে।
প্রাণপণে ছুটোছুটি,
শিকারীরা ক্রমশ আসে এগিয়ে;
সারা জঙ্গল ঘেরাটোপে।
দুই পাশ দিয়ে দু’জন ছুটে আসে—
দুইয়ের থেকে রক্ষার উপায়
নেই…

হরিণেরা এখন আক্রান্ত,
ভয়ে
জঙ্গলজুড়ে যত প্রাণী।
বিশ্বাস এখন ঠুনকো বস্তু।
কেউ জানে না—
কে শিকারী,
কে হতে চলেছে শিকার।
ভয় তাই বুকে নিয়ে,
নিজেকে বাঁচাতে
প্রাণপণে
বাজি রাখে সন্তান…

মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬

রাজা রাণী বাদশা

রাজা-রাণীদের পাশা খেলায়,
আমোদ-প্রমোদে,
আমরাই হয়ে উঠি পাশা—
নর্তক-নর্তকী।
আমাদের কাতর অঙ্গ
অপেক্ষারত থাকে;
রাজাদের স্পর্শ-চাদর
যদি কখনো ঢাকে…

রাজা-রাণী বদলায়,
বংশানুক্রমিক,
কিংবা
নতুন রাজা
গড়ে আস্তানা
আক্রমণে।
আমরা থাকি এক,
যেমন থাকে স্তব্ধ
সাম্রাজ্য পড়ে…

আমরা অবোধ;
ভাই-ভাইয়ে বিরোধ,
প্রতিবেশী রাখে না যোগাযোগ।
কয়বার করেছিলাম
মোড়লের বিরুদ্ধে অভিযোগ—
ওই থেকে এমন।
সাম্রাজ্যবাদীরা গড়ে দেয় বিভাজন;
একে পারে না অপরকে সইতে।
চক্রান্ত চলে ভাইয়ে-ভাইতে,
ওদের শৌখিন সাম্রাজ্য গড়তে
আমরা মেরে চলি একে-অপরকে…

শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬

আঁতাত

ফেলে আসা গ্রাম,
শৈশবের কবর—
খুঁজতে যাই প্রায়শঃ।

যাদের জড়িয়ে বাহুডোরে
ঘুরেছি এককালে,
এখন সব অপরিচিত মুখ—
মূর্ছা গেছে...
আঁতাত।

ভুল ভীষণ হয় মানুষের;
যে যারে চায়, পায় না।
যে চায়, সে দ্বারে যায় না।
প্রত্যেকের লক্ষ্যে চাঁদ—
ছুঁতে, তা-ই হয়তো ভালো লাগে,
যা ছোঁয়া যায় না...

শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬

যারা গেছে চিরতরে

ভোলা মন প্রত্যেকেরই
কেউ সময় নেয় স্বল্প
কেউ দীর্ঘবর্ষ

যারে আগলে বেঁচেছে 
মা-বাবা
কোল খালি হলে অসময়ে
বুক পুড়ে পাথর হয়
তবে পিতৃ-মাতৃহীন হলে
সন্তান মুক্ত হয়
জঞ্জির থেকে
কাঁধের বোঝা নামলে
যেমন তৃপ্তি শ্রমিকের

যারা যায়
যায় চিরতরে
মনে পড়ে ক্ষণিকের
ক’দিন
আবছা ছবি
অস্পষ্ট হতে হতে
হারিয়ে যায় নীরব-নীরবে…

উন্মোচন

বৈবাহিক সংলাপ

অর্ধশতকের অর্ধেক বসন্ত পার হয়ে গেছে, মুখে তার ছাপ ভাসমান। তবে আধার ভিন্ন কথা বলে— ওখানে আমি এখনও তরুণ। ছোটোবেলায় বলতো বাবা-মায়ে, “কয়েক ব...

শীর্ষপাঠ