রাজা আছে, রাজদন্ড আছে…
শ্রমের বিনিময়ে অর্থ নির্বাহ,
শিরদাঁড়ায় ঠেস দেওয়ার একমাত্র অবলম্বন।
রহিম মিয়া অজান্তেই বিক্রি হয়েছে,
পুরুষ তো, শরীরের মূল্য নেই,
যতটুকু মূল্য ওই শরীর নিগড়ানো শ্রমের…
সে কখনো স্বপ্নেই ভাবেনি,
বন্ধুরা বেইমানের অধিক…
বেকারত্বের শ্রমই চাবিকাঠি।
মানুষ মানেই কি আদৌও মানবতাবাদী?
নাকি শুষে ফেলাই একমাত্র পন্থা,
এক মানবিক পরিচিতি!
দূর থেকে সবই সুন্দর,
মানুষও ব্যতিক্রম নয়,
রহিম একথা বইয়ে পড়েছিল এদ্দিন,
আজ অভিজ্ঞতা রক্তে লোহিত কণিকার সংখ্যা আর ঘনত্ব চিনিয়ে গেলো…
দু'দিন ঘোরাফেরায় বন্ধুত্ব গাঢ়,
প্রেমিক-প্রেমিকাও স্বপ্ন দেখে বাসা বোনার,
চিনেছি বেশ…
পশু-মানুষের বিভেদ অনেকটাই,
হয়তো জিনগত ত্রুটি-বিচ্যূতি।
তাই তো পশুদের পাশবিকতা নেই,
মানুষের আছে।
মানুষ জানোয়ারের সমরূপী,
কেউ গিলে খায় শরীর, কেউবা শ্রম।
আততায়ী জন্মায়…
পুঞ্জে পুঞ্জে জমানো ক্ষোভ,
আত্মাও চায় আঘাত করি,
মানবিকবোধ দেয় না সাথ।
“সেবা-ই কর্ম, সেবা-ই ধর্ম”…
এই শুধু গেঁথেছিল নিলাজ আস্তরণে।
করিনি তর্ক-বচসা, এমনকি প্রতিবাদও একবার,
শুধু সহে গেছি, বন্ধুত্ব আর ভালোবাসার খাতির।
ভালোবাসার প্রতিপূরণ ঠোঁটের কোণায় ঘৃণা চুমেছি।
আলোর উজ্জ্বল রশ্মিই আজ আঁধার হেনেছে চোখে।
একনিষ্ঠ দরদ, ক্ষোভ এবং একাকিত্বে রহিম ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে আজও কেঁদে ওঠে।
সমুদ্র গভীরে উচ্ছাস, ভূমিকম্প অনবরত,
তরঙ্গের শেষাঙ্গ ছুঁয়ে যায় আমাদের,
একপ্রান্তে ভাঙ্গা হৃদয় অন্যপ্রান্তে জুড়ে যায়।
মানুষের আলোকিত মুখোশ,
মুখখানি চেনা দায়…