আমাদের কোলে তখন ফুটে-ফুটে সন্তান,
নিঃসন্তানের চেয়ে সন্তান রওয়া ভালো,
একবিংশ শতাব্দী’র শুরুতে এ চিত্র ছিল ভিন্ন,
আমরা কেউই কন্যা সন্তান চাইনি,
আমাদের চাহিদা’র বৈপরীত্যে
ও পৃথিবীতে এলো,
উপেক্ষা না করতে পেরে স্নেহ দিয়েছি বটে,
তবে খামতি রেখেছি প্রতি কোণাতে,
যার প্রতিফলন এখন আপনাদের চক্ষুসম্মুক্ষে…
পিতৃ স্নেহের চেয়েও মাতৃস্নেহ পেয়েছে বেশী,
ঠিক তাই হোক যাতে খুশি মা-বেটি,
মা ওরে পেটে ধরেছে আট-নয় মাস,
তারপর কোলে কাটানো
যদ্দিন করেছে স্তন্যপান…
আমি শুধুই বীজ বপন করেছি,
ওইটুকু কম্মে ও আমায় বাবা কয়,
আজ আমার ছোট্ট খুকি’টা
বাবাকে কয়,
“বজ্জাত,
কাছে ঘেঁষতে দেয় না আমায়।”
হতেই পারে চাওয়া ছিল অনেক,
ওর মা’র পরিবর্তে
আমি যদি গর্ভে ধরতাম তারে,
ওর মা’র বিনিময়ে যদি ঋতুস্রাব ভোগাতো আমারে,
তবে হয়তো কইতো
বাবা-মা দু’জন এক,
রয়েছে আমার এক অন্তরে…
আমার কৈশোর উড়ানকালেও
আমি উড়তে শিখিনি,
খুকি আমাদের দুই-দুই’বার বাসা বেঁধেছিল
এর ওর চালে,
পাখিদের বাসা সাময়িক,
ঝড় আসে অসময়ে,
সব যখন থামে
কেউই যেন চিনেনা কাহারে,
তড়িঘড়ি বাসা বাঁধে,
এ বাঁধন যেন অটুট রহে
এ প্রার্থনা আল্লাহর দ্বারে…
হে ঈশ্বর,
দানব তুমি,
তাই তো লিখিলে এমন ত্রুটিপূর্ণ
ক্রোমোজোমে…