শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬

আগন্তুক

চেনা ভিড়, চেনা মানুষ,
অচেনা ব্যবহার।
সংশয় হয়—
চোখ বুঝি হারাচ্ছে দৃষ্টি।
যদি তা না হয়,
তবে কেন মনে হয়—
অপরিচিত ব্যক্তি?

কোনঠাসা দেশ,
নেই কোনো বিদ্বেষ।
গড়তে ব্যস্ত প্রত্যেকে
স্বদেশ।
সন্ধি বাঁধে যে যার,
ডাক ওঠে
সম্মেলনের।
ব্রহ্মাণ্ডের প্রতিটি গ্রহ,
নক্ষত্র,
চেনে কক্ষপথ…

পুরোনো চাল ভাতে বাড়ে,
লিখন দেখেছি কত দেয়ালে।
তবু মানুষ নতুন কেনে,
নতুন ভীষণ কাছে টানে।
পুরোতন যা কিছু,
ক্ষয়ে যায়,
মরচে ধরে।
অতে আবার রঙ করে
এনেছি ফিরিয়ে।
এখন সব
নতুন লাগে…

শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬

জ্বালা

ভোর হতেই গিয়েছি ছুটে,
দাঁড়িয়েছি লাইনে।
অনেকেই আছে,
রাত থেকে
শুয়ে পড়েছে কোণাতে।

সময় যত গড়ায়,
ভিড় বাড়ে আরো
থেকে আরো…
দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে আছি;

ঘড়িতে তখন দশটা বাজে।
সাহেবরা এলেন অবশেষে—
“দেখুন,
পঞ্চাশের বেশি
তো,
আজ হবে না।
বাকিরা চলে যান,
আগামীকাল আসুন।”

ওই যে লোকটা, যে জেগেছিল
সারা রাত,
চোখ একটু লেগেছিল
ভোরে—
সে-ই এখন পঞ্চাশের ওপারে।
যে ছুটছে চারিদিক,
কখনও ব্যাঙ্কে,
কখনও আধার সেন্টারে;

ওরা বলে, “ফোন নম্বর বলুন,
আধারের সঙ্গে যুক্ত করবেন যে...”
উনি বলেন, “বাবু, আমার তো ফোন নেই।
ছেলেকে চেয়েছিলাম,
বলেছিলাম লিখে দিতে।
বললো, ‘তোদের আর দরকার নেই,
সেই তো বাঁচবি ক’দিন!
এত লিঙ্ক করে আর কাজ নেই’”

যখনই ব্যাঙ্কে যাই,
সেখানেও লাইন সুবিস্তীর্ণ।
কেউ বসে আছে সকাল থেকে,
কেউ এসেছে আরও আগে,
না খেয়ে।

জরাজীর্ণ শরীর—
এক বৃদ্ধ ও বৃদ্ধা।
বলে, “আমাদের সংসার
চলে
পেনশনে।
শুনলাম, কী লিঙ্ক নেই!
বললো, ছোটো ব্যাঙ্কে—
তোমরা বড়ো ব্যাঙ্কে যাও,
ওরা করে দেবে;
নয়তো পেনশন পাবে না আর।
তাই আর খাই কীভাবে?
ঘুমোইনি কেউই
গত রাতে,
ভাবনাতে।

ছেলে-মেয়েরা ওদের মতো,
আমরা ভিন থাকি,
ভিন খাই-মাখি।
কেউই জিজ্ঞেস করে না,
মুখ ফুটে,
বাপ-মা বেঁচে আছে
নাকি মরে গেছে...”

ওরা, যারা ওপরে থাকে,
মহলের মানুষ,
বোঝে না জ্বালা।
না জানলে কিছু,
খেতে হয় অবহেলা।

এ বলে, “ওখানে যাও”,
ও বলে, “এখানে নয়,
ওখানে।”

এভাবেই কাটে বেলা,
শূন্য পেটে।

বেলা শেষে
নিয়ে ফিরি
জোড়া পাঁচশো টাকা।

অর্পিতার পার্থ সাক্ষাৎ - "এ স্ক্যান্ডাল দ্যাট রেইজড্ দ্য নইজ আউটসাইড দ্য রুম"

সম্পর্কে জড়িয়েছি
আর্থিক প্রলোভনে।
সঙ্গম, সঙ্গতিহীন—
তবুও
নিষ্কল শরীরে
হতে হয়েছে কাত বারংবার।

নেশা ভীষণ বাজে,
যেমন টাকার শব্দ বাজে
কানের গোড়ালিতে।
ঘুম হয় না রাতে,
প্রতিবেশী কামরার
খাটের শব্দপাতে।

কখনো যদি প্রেমিক
দাবি নাই রাখে,
খেলতে হয় খেলনা নিয়ে—
ফিরে যাই শৈশবে,
মন-ভোলানিতে,
নিজ কবিরাজিতে;
জ্বর নাহি কমে...

আমার জুড়িরা বলত প্রায়ই—
“বড়ো মাছ ধরবি ধরলে;
প্রেম তো কানামাছি খেলা,
ওতে কখনো হারাবি না।”

ওরা প্রত্যেকেই বোঝে;
তাই তারা নিয়েছে খুঁজে—
চার দেয়ালে কার কত গল্প,
কার কত আলাপ-প্রলাপ।

টাকাওয়ালা লোকের 
বয়স হয় না।
ওরা কিনে নেয় শরীর—
আমার মতো অপরূপা,
যারা
প্রতিনিয়ত বিক্রি হয়
চড়া দরে।

কারো খদ্দের এক,
কারো আবার
একাধিক ঘোরে।

লোকেরা তো জানে না সব;
জানে শুধু তাকে,
যে ধরা পড়ে...

আমার মস্ত বড়ো ভুল—
ভেঙেছে মাস্তুল।
বিশ্বাস করে ওরে,
প্রিয় সখারে,

নিজেকে বাঁচাতে সে
বলি দিল আমাকে...

মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬

কবি

কেউ ছোটো থেকে,
কেউ আবার কিশোরকালে,
কেউ কাঁচা যৌবনে,
কেউ পৌঢ়দশায় লেখাকে
সঙ্গী করে নেয়…

কারো কবিতায় প্রাণ পায় নিস্তব্ধ জগৎ,
কারো কবিতায় ওঠে গোপন
গহিন প্রেম,
বিরহ।
কেউ আবার সব হারিয়ে,
হারানোকেই ভেবে বসে
প্রাপ্তি…

কবিতা প্রাক্তন,
তবুও তারে ভুলে নাই পারি।
লিখতে গেলে অলি-গলি,
অনিয়ন্ত্রিত হয়ে জড়িয়ে ফেলি।
চাঁদে দেখি তার রূপ—
আহা! কী অপরূপ!
কার অঙ্গে কাকে দেখি,
কার চোখে এঁকে ফেলি কাকে!
মহিমার ঠোঁট ছুঁতে গিয়ে,
কামড়েছি নিজেই নিজের
ঠোঁটে আর জিভে…

লিখেছি বই,
লিখছি এখনও অদম্যভাবে।
কত বইমেলা,
কত কবিতা-মেলায়
অতিথি গিয়েছি আমি।
কত কত উচ্চস্তরের
নামি-দামি মানুষের ভিড়ে,
নিজেকে আমি দিয়েছি হারিয়ে;
কবিতাকে আমার সর্বস্ব ভেবে,
বিমুখ আমি গ্রাহস্থ্য থেকে।

এত খ্যাতি চারিদিকে,
সারা জেলা চেনে আমাকে।
শুধু এতকাল পরে,
এখন যখন বসি ব্যস্ততার
প্রাক্ কিংবা পশ্চাতে,
নিজেকে ভীষণ নিঃসঙ্গ লাগে।

যাকে নিয়ে রেখেছি পণ,
সে তো ধরে রেখেছে শুধুই আমায় না,
আরও অনেকের মন।
আর আমি তাঁকে সঙ্গী করে
দোহাই দিয়েছি যৌবন।

ওরা, যারা আদর্শ আমার—
কেউ কেউ বিবাহিত,
কারোর বিবরণ ব্যক্তিগত।

আমি যে হতে চেয়েছিলাম
‘চিরকুমার’!

আজ নিঃস্ব অঙ্গ
করে অঙ্গীকার—

যারা দাবি করে
‘অবিবাহিত চিরকাল’,
তারা ফুল তোলে,
সুবাস নেয়,
গৃহে তোলে না।

আমার মতো কবি হও,
কিন্তু মনে রেখো—
কবিতা শুধু তোমার না।

উন্মোচন

সেনোরিটা

আবার বছর পরে, পশু-পোষ্যের ভিড়ে, পর্ণমোচী গাছে গাছে, নতুন পাতা জুড়ে। গোপিনী গোপন, যত কিছু, দিয়েছি মুছে। হাত বাড়িয়ে রয়েছি, এখন সেনোরিটা’...

শীর্ষপাঠ