ভোর হতেই গিয়েছি ছুটে,
দাঁড়িয়েছি লাইনে।
অনেকেই আছে,
রাত থেকে
শুয়ে পড়েছে কোণাতে।
সময় যত গড়ায়,
ভিড় বাড়ে আরো
থেকে আরো…
দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে আছি;
ঘড়িতে তখন দশটা বাজে।
সাহেবরা এলেন অবশেষে—
“দেখুন,
পঞ্চাশের বেশি
তো,
আজ হবে না।
বাকিরা চলে যান,
আগামীকাল আসুন।”
ওই যে লোকটা, যে জেগেছিল
সারা রাত,
চোখ একটু লেগেছিল
ভোরে—
সে-ই এখন পঞ্চাশের ওপারে।
যে ছুটছে চারিদিক,
কখনও ব্যাঙ্কে,
কখনও আধার সেন্টারে;
ওরা বলে, “ফোন নম্বর বলুন,
আধারের সঙ্গে যুক্ত করবেন যে...”
উনি বলেন, “বাবু, আমার তো ফোন নেই।
ছেলেকে চেয়েছিলাম,
বলেছিলাম লিখে দিতে।
বললো, ‘তোদের আর দরকার নেই,
সেই তো বাঁচবি ক’দিন!
এত লিঙ্ক করে আর কাজ নেই’”
যখনই ব্যাঙ্কে যাই,
সেখানেও লাইন সুবিস্তীর্ণ।
কেউ বসে আছে সকাল থেকে,
কেউ এসেছে আরও আগে,
না খেয়ে।
জরাজীর্ণ শরীর—
এক বৃদ্ধ ও বৃদ্ধা।
বলে, “আমাদের সংসার
চলে
পেনশনে।
শুনলাম, কী লিঙ্ক নেই!
বললো, ছোটো ব্যাঙ্কে—
তোমরা বড়ো ব্যাঙ্কে যাও,
ওরা করে দেবে;
নয়তো পেনশন পাবে না আর।
তাই আর খাই কীভাবে?
ঘুমোইনি কেউই
গত রাতে,
ভাবনাতে।
ছেলে-মেয়েরা ওদের মতো,
আমরা ভিন থাকি,
ভিন খাই-মাখি।
কেউই জিজ্ঞেস করে না,
মুখ ফুটে,
বাপ-মা বেঁচে আছে
নাকি মরে গেছে...”
ওরা, যারা ওপরে থাকে,
মহলের মানুষ,
বোঝে না জ্বালা।
না জানলে কিছু,
খেতে হয় অবহেলা।
এ বলে, “ওখানে যাও”,
ও বলে, “এখানে নয়,
ওখানে।”
এভাবেই কাটে বেলা,
শূন্য পেটে।
বেলা শেষে
নিয়ে ফিরি
জোড়া পাঁচশো টাকা।