বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬

সেনোরিটা

আবার বছর পরে,
পশু-পোষ্যের ভিড়ে,
পর্ণমোচী গাছে গাছে,
নতুন পাতা জুড়ে।

গোপিনী গোপন,
যত কিছু,
দিয়েছি মুছে।
হাত বাড়িয়ে রয়েছি,
এখন
সেনোরিটা’র খোঁজে…

নয়ন খুঁজি তেমন,
যেমন চোখের পাতার কাজল,
স্পষ্ট করে আমার জ্যোতি।
জ্যোৎস্না রাতে,
স্নিগ্ধ সৈকতে,
মুক্ত ভেবে তোমাকে চুমি।
তোমার কালো কেশ
ভাবায় আমায়—
সাগরের পানি,
অন্ধকারাচ্ছন্ন অরণ্য,
নক্ষত্র বিহীন আসমান,
আমি তোমাকে দেখি।
জ্বলে ওঠে আমার দেশ,
ওতে পুড়ে আমি শেষ।
প্রেম তবুও অমৃত-সুধা;
পাওয়া না পাওয়া, অন্য কথা।
ভালোবাসা থাকবে গাঁথা।

তোমার আঙুলের নখরঁজনী,
আমার চোখে রামধনু জানি।
প্রতি প্রাতঃ রজনী,
আঁখি খোঁজে সজনী।
তোমার অষ্ঠের আঁচড়
বুকে রেখেছে দাগ…

ওকে কখনো চিনতাম না।
কখনো ওকে বলিনি ডেকে।
ভালোবাসা পেতে গিয়ে,
যদি হারাতে হয় তাকে,
তাই গোপন ছিল সব।
আজও আছে।
ও জানে,
জানি আমিও।
না বলেই বেশ ভালো আছি,
সেনোরিটা’র কাছাকাছি…

বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬

পরদেশ

অসহায় মানুষ বোঝে না
নিয়ম-কানুন।
ওরা জানে না
বিভাগ-বিভাজন।
ওদের কেউ বলেনি,
বাঁচতে হলে
বাছতে হবে।
ঠিকানা আসে পাশেই;
ভুলক্রমে সীমানা পেরোলে,
জান বাঁচাতে গিয়ে
খোয়াতে হতে পারে

আবু মিঁয়া,
জীবিকার টানে
এভাবেই এসেছিল এখানে।
দ্বিখণ্ডিত হওয়ার আগে
পরিবার ছিল এখানেই।
তারপর একে একে
চলে যেতে হয়েছে।
আজ দুই দশকের বেশি
এ জমিনে আছি।

ওদের যা আছে, দিয়েছি সব।
আমি বুঝি না ওসব—
উকিল-ওকালত।
ওরা বলে,
“এগুলো কোনোটাই প্রমাণ নয়
নাগরিকত্বের।”

বলুন,
তবে কী দেখাই?
প্রমাণ দেখাতে
দেখাবো খুন?

যতদূর জানি,
সবার খুন এক।
তবুও কয়েকের প্রতারণাতে
শুনতে হয় প্রতারক।

মুসলিমের ঘরে জন্মানো হারাম?
মুসলিম শুধু বাংলাদেশ ও পাকিস্তানেই জন্মায়?

রাজার আদেশ—
উচ্ছেদ।

মুখ তুলে বলবি,
কোন মুখে?

তোর গড়া ভিটেমাটি
গুঁড়িয়ে দেবে বুলডোজার।
ফিরে যাবি সেথা,
যেথা ছিলি
তুই এককালে।

কপালে লেখা—
নাগরিক তুই ও দেশের।
পরদেশে ঠাঁই পাবি কী করে?

উন্মোচন

সেনোরিটা

আবার বছর পরে, পশু-পোষ্যের ভিড়ে, পর্ণমোচী গাছে গাছে, নতুন পাতা জুড়ে। গোপিনী গোপন, যত কিছু, দিয়েছি মুছে। হাত বাড়িয়ে রয়েছি, এখন সেনোরিটা’...

শীর্ষপাঠ