কেউ আবার কিশোরকালে,
কেউ কাঁচা যৌবনে,
কেউ পৌঢ়দশায় লেখাকে
সঙ্গী করে নেয়…
কারো কবিতায় প্রাণ পায় নিস্তব্ধ জগৎ,
কারো কবিতায় ওঠে গোপন
গহিন প্রেম,
বিরহ।
কেউ আবার সব হারিয়ে,
হারানোকেই ভেবে বসে
প্রাপ্তি…
কবিতা প্রাক্তন,
তবুও তারে ভুলে নাই পারি।
লিখতে গেলে অলি-গলি,
অনিয়ন্ত্রিত হয়ে জড়িয়ে ফেলি।
চাঁদে দেখি তার রূপ—
আহা! কী অপরূপ!
কার অঙ্গে কাকে দেখি,
কার চোখে এঁকে ফেলি কাকে!
মহিমার ঠোঁট ছুঁতে গিয়ে,
কামড়েছি নিজেই নিজের
ঠোঁটে আর জিভে…
লিখেছি বই,
লিখছি এখনও অদম্যভাবে।
কত বইমেলা,
কত কবিতা-মেলায়
অতিথি গিয়েছি আমি।
কত কত উচ্চস্তরের
নামি-দামি মানুষের ভিড়ে,
নিজেকে আমি দিয়েছি হারিয়ে;
কবিতাকে আমার সর্বস্ব ভেবে,
বিমুখ আমি গ্রাহস্থ্য থেকে।
এত খ্যাতি চারিদিকে,
সারা জেলা চেনে আমাকে।
শুধু এতকাল পরে,
এখন যখন বসি ব্যস্ততার
প্রাক্ কিংবা পশ্চাতে,
নিজেকে ভীষণ নিঃসঙ্গ লাগে।
যাকে নিয়ে রেখেছি পণ,
সে তো ধরে রেখেছে শুধুই আমায় না,
আরও অনেকের মন।
আর আমি তাঁকে সঙ্গী করে
দোহাই দিয়েছি যৌবন।
ওরা, যারা আদর্শ আমার—
কেউ কেউ বিবাহিত,
কারোর বিবরণ ব্যক্তিগত।
আমি যে হতে চেয়েছিলাম
‘চিরকুমার’!
আজ নিঃস্ব অঙ্গ
করে অঙ্গীকার—
যারা দাবি করে
‘অবিবাহিত চিরকাল’,
তারা ফুল তোলে,
সুবাস নেয়,
গৃহে তোলে না।
আমার মতো কবি হও,
কিন্তু মনে রেখো—
কবিতা শুধু তোমার না।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন