স্বপ্ন ছিল আকাশসমান,
ইচ্ছে ছিল ছোঁবো।
বাবা-মা তাই বিয়ের কথা
তোলেনি একবারও।
একে একে স্নাতক,
স্নাতকোত্তর—
সম্পূর্ণ হয়ে গেছে।
ফল করেছি ভালো,
তাই বাবা-মা খুশি,
গর্বিত।
এই বছর জাতীয় যোগ্যতা পরীক্ষায়
জুনিয়র রিসার্চ ফেলোশিপ পেয়েছি।
ভাষায় বোঝানো মুশকিল—
আমি আত্মহারা…
আমায় বিশ্ববিদ্যালয়ে
যে ম্যামটি স্নেহ করতেন খুব,
আমি পৌঁছালাম ওনার কাছে।
উনি খুব বাহবা দিলেন,
কিন্তু নিলেন না আমাকে।
উনি পাঠালেন অন্য স্যারের কাছে।
ওনাকেও চিনি,
তবে ম্যামের অতটা নয়।
আসলে মেয়ে মানুষ যতটা মেয়েকে চেনে,
পুরুষকে চেনা সম্ভব কি!
আলাপচারিতায় বুঝেছি—
বাছাই পূর্বেই হয়।
মাথা ভর্তি জ্ঞান থাকলেও,
আকর্ষক কিছু না থাকলে
অনাহারে থাকা ওদের দু’চোখ
কীভাবে তৃপ্ত হয়?
ওরা জিজ্ঞেস করে,
জানতে চায় না।
ঠোঁট দুটোর সৌন্দর্যই উপভোগ করতে এসব।
স্যারেরা নাকি ডাকে রাত-বেরাতে—
যতটা খবর
দিদিদের দরুণ শোনা-শুনিতে।
আমার তখন গবেষণার নেশা,
পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ কম।
খোঁজ নেয় বারে বারে কেউ—
সে বিরক্তিতে ভেঙেছি প্রেম।
তখন ভাবনায় অন্য কথা,
মনে হয়েছে এগুলোই
স্বপ্নে বাধা,
প্রতিবন্ধকতা…
স্যার খুব ভালো,
পড়াতে ভালোবাসেন।
বরফের মতো উষ্ণ স্নেহে
গিয়েছে গলে
অত শত শোনা কথা—
তখন আমার কাছে মিথ্যে,
ভ্রান্ত ধারণা।
একদিন রাতে
স্যার গাড়ি পাঠালেন,
বললেন ওতে আসতে।
আমি দ্বিধাবোধ করিনি।
তাছাড়া যারা তুলতেন নৈতিকতা,
ওদের বলি না এসব।
গিয়ে দেখি শূন্য মহল—
কেউ কোথাও নেই।
আমায় দেখে মুচকি হাসি স্যারের,
কেমন একটু দুষ্টু হাসি।
হঠাৎই বিশ্বাস পূর্ণ অবিশ্বাসে—
কেমন যেন অন্য ছোঁয়া।
যেভাবে বন্যপ্রাণী টের পায় বিপদ,
নারীও টের পায়
পূর্বেই পুরুষের আক্রমণ…
সেদিন সেই জমে যাওয়া শরীর,
সেই চেনা মানুষের অচেনা রূপ—
আমি হরিণ হয়ে শিকার হলাম,
শিকারীকে ভেবে সখা।
সারা জঙ্গল শূন্য,
আমার আর্তনাদ—
সেদিন নিরবতা…
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন