বৃহস্পতিবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৫

কাজের মাসী

কখনো এ বাড়ী
কখনো আবার ও বাড়ী
দেখাশোনার দায়িত্ব বইকি…
যারা ওদের এনেছিলো
দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে
ভাতে-কাপড়ে সুখে রাখার
প্রতিশ্রুতি দিয়ে 
তারা হাত তুলে দিয়েছে আজ
আত্মসমর্পণ করে
পুরুষের যা দায়িত্ব
তার অর্ধাংশই নারী 
পালন করে…

কারো বাড়ী থাকি সারা বেলা
কারো কারো বাড়ীতে
শুধুই সময় সময়ে যাওয়া ফেরা
কেউ বোঝে মজবুরি
দেয় সঠিক মজুরি
কেউ আবার শর্ত রাখে
এমনই
যেন আমি বিক্রিত পণ্য
ক্রয় করেছে ভোগের লাগি
কত যাতনা কত জ্বালা
কাদের বোঝালে
হবে ফয়সালা?
বিচার করবে তো তারাই
যারা বড়ো মানুষ
দাদা! দাদা! করে ডাকি যাদের
রোজ
এসব সব ছোঁয়াচে অসুখ
ছড়িয়ে যায় সহজেই
স্বামী বলে, “মাগী শরীর বেচিস
তোর অভাব এমনই!”
আমার নাগরকে বোঝাই ক্যামনে
সে যদি খাটতো আজ
তার বলে
হয়তো এমন দুর্দিন হতনে…

কেউ ডাকে নামে
কেউ ডাকে বৌদি
কেউ আবার মাসিমা নামে
আমার বুক ভরে ওঠে স্নেহে
আমার মনেই হয়নি 
কাজের লোক
কেউ কেউ আগলেছে এমন
মনে হয় পরিবার
এমনই তো হয়
ছোটোতে বিবাহপূর্ব কল্পনায়
এঁকেছিলাম এমনই ছবি
বাস্তবে তারই দেখেছি বিপরীত
প্রতিচ্ছবি
স্বামীর মুখ দেখে নয়
সন্তানের মুখ চেয়ে
আমি রয়েছি ওই পরিবারে
অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে…
আক্ষেপ করি না
উপেক্ষা করি
বেঁচে নেবো সেভাবেই
যেভাবে বাঁচবে পৃথিবী…

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

উন্মোচন

বৈবাহিক সংলাপ

অর্ধশতকের অর্ধেক বসন্ত পার হয়ে গেছে, মুখে তার ছাপ ভাসমান। তবে আধার ভিন্ন কথা বলে— ওখানে আমি এখনও তরুণ। ছোটোবেলায় বলতো বাবা-মায়ে, “কয়েক ব...

শীর্ষপাঠ