যতটুকু মনে পড়ে,
আসলে যতটুকু মনে রাখতে চেয়েছি আর কি…
তখন আমি সদ্য প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্ব শেষ করে
উচ্চবিদ্যালয়ের গণ্ডিবদ্ধ হবো—
সে কি উচ্ছ্বাস ছিল অন্তরে!
বলে বোঝানো মুশকিল লেখ্য ভাষাতে…
আমার অত মনে নেই,
তবে মা প্রায়শই বলেন—
আমার শৈশব থেকেই কেমন বিদ্যালয়ে যাওয়ার একটা ঝোঁক ছিল দারুণ রকম,
কিন্তু পাঁচ বছর ছাড়া তো ভর্তি হয় না,
তাই ছাড়পত্র মেলেনি।
আর তখন দাদা-দিদিরা নিজেদের আত্মমর্যাদা রক্ষার্থে নিয়ে যেতে চাননি,
পড়ে পড়ে কেঁদেছি সেসব দিন…
সত্যিই তো— উচ্চবিদ্যালয় মানেই উচ্চবিলাসী জীবনযাত্রা।
আমি যখন আমাদের নিকটস্থ হাইস্কুলে ভর্তি হলাম পঞ্চম শ্রেণীতে,
গ্রামাঞ্চলের বহু পরিচিত মুখ তো তখন,
তাই কখনো একাকিত্ব ঘিরে ধরেনি।
হ্যাঁ, অনেক বন্ধু-বান্ধব,
ঠিক যতটা স্তরে পৌঁছালে মানুষ ভাবতে শুরু করে একে ওকে ‘বেস্টফ্রেন্ড’—
আসলে সময়ের ধারাবাহিকতায় সবই তো মূর্ছা যায়,
সে হোক না বন্ধু-শত্রু-স্বজন-পরিজন…
আমার চারটি বসন্ত পেরিয়েছে ওখানে—
কত ঝড়-ঝঞ্ঝা আর উত্থান-পতনে!
আমি প্রায়শই শুনতাম,
হয়তো বিশ্বাস হয়ে ওঠেনি না দেখা চাক্ষুষ প্রমাণে।
কিন্তু এখন বুঝতে পারি, বুঝতে শিখেছি—
হাড় যত ক্ষয় হয়, মানুষ বুঝতে শেখে,
বুঝতে বাধ্য হয়,
প্রকৃতি বাধ্য করে…
এক কথাকে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে কত রকমে বলা যায়!
শিক্ষক-শিক্ষিকারা খ্যাতিতে চেনে,
ব্যক্তিগত দিক থেকে মুখগুলো অচেনা—
আসলে কেউ চেনে,
কেউ আবার চিনেও না চেনার ভান করে,
মানে চিনতে চায় না আর কি…
আমার অভিজ্ঞতা অজস্র—
বর্ণনা দিলে সমুদ্রসমান।
ক্ষত ভুলে থাকাই ভালো।
তাই এখনও কখনো
সময় অসময়ে পেরিয়ে যাই ওপথেই,
শুধু দেখি—
দাঁড়িয়ে আছে নির্মাণ,
দু’হাত বাড়িয়ে,
প্রাণ নেই আঙ্গিনায়…
চিতাভস্ম ঘুরে ফিরে দেখে কেউ কেউ—
এখনও কি কিছু বাকি আছে?
সব শেষেও কি ফেরে যায় শুরুতে?
বিহারে যদি নালন্দা ফেরে,
আমরাও ফিরবো সগৌরবে…
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন